তিনচুলের দুয়োরে
এক
এক
শিয়ালদা থেকে দার্জিলিং মেলে উঠলে ফারাক্কা ব্যারেজ একটা মহালয়া! ভোর ঠিক পৌনে চারটেয় তোমার পিঠে গুম-গুম কিল মেরে ঘুম ছুটিয়ে দেবে। তারপর ট্রেনের সাদা কফিন-কাভারে শুয়ে রেলের চাকার বীরেন্দ্রকৃষ্ণ শুনতে শুনতে আবার নিদ্রা মেঁ তল্লীন হয়ে যাও!
সত্যিই কি গঙ্গা সেতু পেরনো গাড়ি আর চণ্ডীপাঠে কোনও তফাত আছে, যখন দু’ব্যাপারেই প্রচুর জনতার কপাল-করজোড় কাছাকাছি? তারপর দেবীস্তোত্রের মানে যদিও বা পরিষ্কার হল, যে নাদ প্রতিদিন অকাল মহালয়া, তার অন্তঃসার বুঝতে পারি না কেন?
ফ্যানন-এর ‘রেচেড অফ দ্য আর্থ’-এর ভূমিকায় সার্ত লিখেছিলেন, দখলদার দেশগুলো উপনিবেশের কিছু নেটিভকে বেছে নিয়ে নিজেদের কায়দায় ‘শিক্ষিত’ করে তোলে। সভ্যতাও তো অসংখ্য অপরিজ্ঞাত ধ্বনির মধ্যে একগুচ্ছকে আলাদা করে তাদের গায়ে অর্থের জামা পরিয়ে নাম দিয়েছে ‘ভাষা’। বাকিরা বেবাক বোবার বস্তিতে পড়ে থাকল, গৌণপ্রকাশের সেলোটেপ ঠোঁটে আটকানো...।
অথচ, ভেবে দ্যাখো, স্নানঘরের জলই কতরকম কথা বলে! যদি তুমি শান্ত হতে পারো, বালতি ভর্তি হওয়ার জল, মগ নামের জলদস্যু থেকে মাথায় ঢালা জল, শাওয়ারের প্রেমিক জলগুচ্ছ, এমনকি নাইটক্লাবের বাউন্সারের মতো ফ্ল্যাশটানা জলও --- মেঝের দেয়ালে প্রত্যেকের আলাদা গল্পের জলপনা!
সেইরকম, দার্জিলিং মেল-এর ধ্বনিলিখিত কবিতা আমি পড়ার চেষ্টা করি আরও একবার। শরীরে লাগা ঝাঁকুনি থেকে খুঁটে তুলে তার রাগসংগীতের মতো সামান্য স্পষ্ট গোঙানি, কিছু জোরালো আবেদন (যা ভাষা-আম্পায়ার তখুনি নাকচ করে দেবে) রাত-পাঞ্জাবির পকেটে রেখে দিই।
দেখে নিও গাছের মর্মর, হাওয়ার শনশন, আর দূরপাল্লার রাতের বুকে প্রাণ এনে দেওয়া ছুটন্ত শব্দরোল --- তোমাদের অথর্ববেদ, তোমাদের গীতবিতান একদিন ঠিক আবিষ্কার করব আমি, এই ভেবে নিজের অপেক্ষায় নিজেই জেগে থাকবো বলে বিছানার পাশের আলো জ্বালাতে হাত বাড়ালাম।
দুই
সূর্য ওঠার রাস্তাটা এমন, যে কেউ দেখলে বুঝবে শুধু সকালই হাঁটে সেখানে। সোজা চলে যান, গুম্ফা পড়ছে, তারপাশ দিয়ে সিঁড়ি... লোকে আরামসে বলে দেয়। কিন্তু এত শিশিরফল দুপায়ে থেঁতো করে, এত ঘাসের ক’ড়ে আঙুল ভেস্তে দিয়ে যেখানে গুম্ফা-কিশোরের কৌতুকমাখা চোখ লেগে আছে, আমি কীভাবে পৌঁছোতাম, যদি মিশি না থাকতো সঙ্গে?
সূর্য ওঠার রাস্তাটা এমন, যে কেউ দেখলে বুঝবে শুধু সকালই হাঁটে সেখানে। সোজা চলে যান, গুম্ফা পড়ছে, তারপাশ দিয়ে সিঁড়ি... লোকে আরামসে বলে দেয়। কিন্তু এত শিশিরফল দুপায়ে থেঁতো করে, এত ঘাসের ক’ড়ে আঙুল ভেস্তে দিয়ে যেখানে গুম্ফা-কিশোরের কৌতুকমাখা চোখ লেগে আছে, আমি কীভাবে পৌঁছোতাম, যদি মিশি না থাকতো সঙ্গে?
মিশির সাদা অঙ্গ, মিশির বড় লোম, মিশির ভদ্রতা দেখলে কৃতজ্ঞতাক লেগে যাবে (দুটো শব্দ মিশিয়ে বললাম)। গুরুংলজ থেকে আমি বেরনোমাত্র সে এই ডানপায়ের গোড়ালি একবার শুঁকে নিয়ে আমার গাইড ও ভ্রমণসঙ্গী হিসেবে নিজেকে স্থায়ি নিয়োগপত্র দিয়ে দিয়েছে।
যাহ্, পরের কথা আগে ফাঁস হয়ে গেল! আমি যে এখনও পৌঁছোইনি তিনচুলেতে! আজকাল যদি বেরিয়ে পড়তে ইচ্ছে করে, সে এমনকি হাতের কাছে আজাদ উত্তরবঙ্গ হলেও, মানচিত্র লাগে, পিঠব্যাগে হাজার টুকিটাকি, ইন্টারনেটে ঝুঁকে পড়তে হয় দাবাখেলার চালচক্কর মাথায় নিয়ে। অনেকক্ষণ আগে ডাঙায় তোলা রূপচাঁদা মাছের মতো মন মরে যায় শুরুতেই। তারপরেও কত শেকলছেঁড়ার গান --- পোষা বেড়াল, অর্ধেক অ-শেষ করা বই, আদরের মুখ। নিষ্ঠুরতা, যে বাঘনখ ত্যাগ করতে অনেক সাধনাদিন গেছে, আজ আবার হাতে তুলে নিতে গিয়ে দেখি ভারি হতে হতে হাজার সিসি সিলিন্ডার বুক তা আর বইতে পারছে না।
পুরনো ফোটোগ্রাফের মধ্যে যেমন আর ফেরা যায় না, পুরনো অভ্যেসেও।
হয়তো এইসব পিছুটানই জোড়বাংলা থেকে আর কোনও গাড়ি পাঠাচ্ছিল না তাকদা-র দিকে। ‘আমি চলে এনু বলে...’ গাইতে গাইতে নড়বড়ে কোমর-সেতুতে ভারি রুকস্যাক চাপানো এই বিস্ট অফ বার্ডেন পায়চারিময় অপেক্ষা করতে থাকে। তখন চোখে পড়ে শেষ অক্টোবরে মুখচোরা সকালের মান্যগণ্য রোদ্দুরে পিঠ পেতে ক’টা মানুষ রাস্তার পাশে জুয়ো খেলতে বসেছে। নাম পারস, তিব্বতিদের হাত ধরে দার্জিলিং ভূখণ্ডে নেমেছে এই স্বর্গীয় আনন্দ। পারসের উপাদান দুটো ছক্কা, কিছু কড়ি, কয়েকটা ছোট কাঠি হলুদ আর সাদা রঙের। কানাতওলা বাটি কিম্বা ছোট্ট টুপি-পাত্রে ছক্কা নাড়িয়ে বাটি উপুড় দেওয়া হলে দুই ছক্কার ক’ফোঁটা চিৎ হল সেইমতো কড়ি গুনে ভাগ করে কাঠি সরানো হবে। এভাবে খেলার শেষে যার সব কাঠি ‘উঠে’ গেল, লুডো মনে করুন, তার জিত। বাকিরা নিজেদের রোজগার করা কাঠি-সংখ্যার সঙ্গে তফাত বিচার করে পয়সা দেবে, যেভাবে আমরা ফিশ খেলে থাকি।
পেছনের পৃথিবীর ব্যবসায়ে ক্ষতি, হওয়া কাজ না হওয়া, প্রেমে আঘাত এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাইরের লোক-এর ইতিহাস অস্বীকার করে পাশাপাশি পাতা দুটো বোর্ডে জনাদশেক উৎফুল্ল খুশমেজাজ হয়ে আছে, পনেরো বছরের কিশোরি যেভাবে বিনা অকারণে হেসে গড়িয়ে যায়, তেমনি নিরাশ্রয় উচ্ছ্বাস তাদের ভেতরে। যোগাসন ছাড়াই কত গ্রন্থি-নিঃসরণ হচ্ছে শরীরে, প্রৌঢ়ের যুবক-মুখে সেই গবেষণা! নদীর ঘেঁটি ধরে তার সরণি ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো মহাভারতের ঘটনাস্রোত যে একাহাতে পালটে দিয়েছিল, সেই জুয়োখেলার সুখ-সম্ভাবনা নিয়ে আমরা সিরিয়াসলি ভাবলামই না কোনওদিন। সংক্রামক জীবানুর মতো তাকে কাচের বোয়ামে পুরে দূর থেকে ভয়ে-লোভে তাকিয়ে থাকলাম শুধু। কেননা, যৌনতা আর নেশা করা নিয়ে রাষ্ট্রের ভয় নাগরিকের মনে জোর করে শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিন
জোড়বাংলা থেকে তিনচুলে যাওয়ার শেয়ার-জিপে বসে দেখি পাহাড়ি রাস্তা হঠাৎ মোড় ঘুরে এক্ষুনি সামনে শূন্যতার পর্যাপ্ত ঘুঙুর দেখিয়ে দিচ্ছে, তো পরের পলকে পাহাড়ের সার সার মাদলশ্রেণী। নিয়ম মানার কালো চাদর গা থেকে সরিয়ে একদিন সভ্যতাও সেলিব্রেশানের অন্য নাম হবে। চিকিৎসাবিজ্ঞান নেশাড়ুকে সারিয়ে তুলে নিরানন্দ সুস্থ জীবনের শপথ নেওয়াবে না, বরং আসক্তির জন্যে সবল করে গড়ে দেবে শরীর। অথবা, অতিখরুচের পিঠে ভরসার হাত রাখবে অর্থনীতির মূল সূত্রগুলো।
কিন্তু আমাকে এত ভালো ভালো কথা ভাবতে দিতে জনগনের বয়েই গেছে। জিপে পাশের ভদ্রলোক তার বন্ধুর পেছনে বেশ শৈল্পিকভাবে লেগে গেলেন:
জোড়বাংলা থেকে তিনচুলে যাওয়ার শেয়ার-জিপে বসে দেখি পাহাড়ি রাস্তা হঠাৎ মোড় ঘুরে এক্ষুনি সামনে শূন্যতার পর্যাপ্ত ঘুঙুর দেখিয়ে দিচ্ছে, তো পরের পলকে পাহাড়ের সার সার মাদলশ্রেণী। নিয়ম মানার কালো চাদর গা থেকে সরিয়ে একদিন সভ্যতাও সেলিব্রেশানের অন্য নাম হবে। চিকিৎসাবিজ্ঞান নেশাড়ুকে সারিয়ে তুলে নিরানন্দ সুস্থ জীবনের শপথ নেওয়াবে না, বরং আসক্তির জন্যে সবল করে গড়ে দেবে শরীর। অথবা, অতিখরুচের পিঠে ভরসার হাত রাখবে অর্থনীতির মূল সূত্রগুলো।
কিন্তু আমাকে এত ভালো ভালো কথা ভাবতে দিতে জনগনের বয়েই গেছে। জিপে পাশের ভদ্রলোক তার বন্ধুর পেছনে বেশ শৈল্পিকভাবে লেগে গেলেন:
দিল দুঙ্গা এককো
মেরা দিল হ্যায় নেক
ইয়ে নহি কোঈ কেক
কে টুকড়া টুকড়া বাঁটু অনেককো
মেরা দিল হ্যায় নেক
ইয়ে নহি কোঈ কেক
কে টুকড়া টুকড়া বাঁটু অনেককো
--- আমি চন্দন। আপনার নাম জানতে পারি?
এক মুহূর্ত থমকাতে দেখলাম না পাহাড়ি কবিকে।
--- রাকেশ রোশন!
এক মুহূর্ত থমকাতে দেখলাম না পাহাড়ি কবিকে।
--- রাকেশ রোশন!
এভাবে কত মুখ যে পেয়ে যাই অফিসে, রাস্তায়, ফেসবুকে, দোকানপাটে। আলাপ হয়ে মনে হয় আমার সব কথাগুলো, সমস্ত হাসি এদের কাছে জিম্মা রেখে ফিরিয়ে নিতে ভুলে গেছিলাম। এতদিন পরে তারা কেউ খাটো আঙুলের ফাঁকে খৈনির ডিব্বা, কেউ পাহাড়ের ঢালে কানপাশার মতো ঝুলতে থাকা ট্রি-টমেটো। মানুষকে সবচেয়ে ভালোবাসা যায় অর্ধেক অপরিচয়ের ব্যালকনি থেকেই। খুব চেনা উঠোনে একদিন চিতাবাঘসম্পন্ন জঙ্গলের গন্ধ উঠে আসে।
চার
চিলোনি কাঠের চিলেকোঠা, তার ঝুলবারান্দার চাবি আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে চা আনতে উধাও হল সুন্দর গুরুং। কেননা, ইহাই গুরুং গেস্ট হাউজ, তিনচুলেতে মাথা গোঁজার একমাত্র চুলো। এক চিলতে বাথরুম-নির্জনতা পেরিয়ে বারান্দা থেকে জরিপ করে নিই সূর্যোদয় কাঁধে নেওয়া পাহাড়, মেঘ-তিস্তা আর গীর্জার চুড়োর মতো পাইনশীর্ষ। ফিসফিসিয়ে সেই প্রকৃতিকে বলি, দাঁড়াও, হচ্ছে তোমার! যখন বর্ণনা করতে বসব --- ওই ঠোঁটের কুয়াশা, অন্তর্বাসের অন্ধকার সরিয়ে আরও ভেতরে যাবে আমার কলম–সর্বস্ব হাতের আঙুল, যেখানে ছোঁয়া পড়লে তুমি লজ্জায় ময়ূর হয়ে ওঠো, স্ট্যাচু ভেঙে ‘ফিক’ ক’রে দাও, আর আমি প্রমাণ পাই পৃথিবীর সব সৌন্দর্যেই স্তন আর ওষ্ঠচেতনা মিশে আছে।
চিলোনি কাঠের চিলেকোঠা, তার ঝুলবারান্দার চাবি আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে চা আনতে উধাও হল সুন্দর গুরুং। কেননা, ইহাই গুরুং গেস্ট হাউজ, তিনচুলেতে মাথা গোঁজার একমাত্র চুলো। এক চিলতে বাথরুম-নির্জনতা পেরিয়ে বারান্দা থেকে জরিপ করে নিই সূর্যোদয় কাঁধে নেওয়া পাহাড়, মেঘ-তিস্তা আর গীর্জার চুড়োর মতো পাইনশীর্ষ। ফিসফিসিয়ে সেই প্রকৃতিকে বলি, দাঁড়াও, হচ্ছে তোমার! যখন বর্ণনা করতে বসব --- ওই ঠোঁটের কুয়াশা, অন্তর্বাসের অন্ধকার সরিয়ে আরও ভেতরে যাবে আমার কলম–সর্বস্ব হাতের আঙুল, যেখানে ছোঁয়া পড়লে তুমি লজ্জায় ময়ূর হয়ে ওঠো, স্ট্যাচু ভেঙে ‘ফিক’ ক’রে দাও, আর আমি প্রমাণ পাই পৃথিবীর সব সৌন্দর্যেই স্তন আর ওষ্ঠচেতনা মিশে আছে।
কিন্তু তার আগে, অক্টোবরের গায়ে হেলান দেওয়া একটা অচেনা-কিন্তু-নিজের ঘর পেয়ে যাওয়াও কি তোমাকে কাছে পাওয়ার চেয়ে কম, বলো নিসর্গ? চেয়ারের মাথায় ভাঁজ করা সাদা তোয়ালে ছুঁই, ট্রে-র ওপর উপুড় কাচের গ্লাস বসাই সোজা করে, তারপর ড্রেসিং টেবলের সামনে দাঁড়ালাম। আর চমকে উঠে দেখি আমার অর্ধেক বয়েসি এক যুবক সেখানে --- শুভ্র ক’রে দাড়িকামানো পাতলা মুখ, কপাল-সাঁতরানো চুল তার, আর কন্ঠার হাড় উঠে আছে ফাঁকা রাস্তায় হোঁচট-সর্বস্ব নুড়িপাথর!
পাঁচ
শেষ-দুপুরের ফাঁকা ডাইনিং হলে ব’সে দেয়ালে গোছা গোছা ভুট্টা, শুকিয়ে লাল-এর ইন্টিরিয়ারের দিকে তাকিয়ে আছি, ঢুকলেন এসে এক পরিবার, তিনচুলের তিন চুড়োর মতো মা, বাবা, মেয়ে। সামনের টেবিলে আমার মুখোমুখি দুজনে, আর ভদ্রমহিলা --- হলুদ শালটাই শুধু দেখতে পাচ্ছি --- পেছন করে উপবিষ্ট।
যে কোনও বাঙালির অন্তর্তদন্তমূলক প্রতিবেদন তার প্রতিবেশীকে নিয়েই শুরু হয়:
--- কতদিন এসেছেন? একা? কেন! কবে নামছেন পাহাড় থেকে? এনজেপি থেকে হলদিবাড়ি এক্সপ্রেস ধরবেন? কেন? কলকাতায় থাকেন কোথায়?
--- কতদিন এসেছেন? একা? কেন! কবে নামছেন পাহাড় থেকে? এনজেপি থেকে হলদিবাড়ি এক্সপ্রেস ধরবেন? কেন? কলকাতায় থাকেন কোথায়?
প্রশ্ন এড়ানোর জন্যে সুন্দরের সঙ্গে গল্প জুড়তে হয়।
--- এখানে পেশক চা বাগানের মধ্যে গুম্বাদাঁড়ার ঠিক আগে একটা ভূতের ডেরা আছে, না?
সুন্দর অবাক এবং সন্দিগ্ধ।
--- আপনি কীভাবে জানলেন!
--- যেভাবেই জেনে থাকি, আছে কিনা? ওখানে পনেরো-ষোলো বছরের একটা ছেলে গলায় দড়ি দিয়েছিল। তারপর থেকে ওই পথে তার অশরীরি আত্মা ঘুরে বেড়ায়।
এবার প্রতিবাদ করে সুন্দর।
--- বকওয়াস, কিস্যু নেই। আমি আর আমার এক বন্ধু রাত সাড়ে এগারোটায় গুম্বাদাঁড়া দিয়ে পাস করেছি এই সেদিন।
--- তুমি ভূতে বিশ্বাস করো?
--- নাহ্।
--- তাহলে দেখতে পাবে আশা করলে কী করে! মানুষের প্রেস্টিজ আছে, ওদের নেই? প্রেতাত্মার অস্তিত্বেই ভরসা রাখে না যে, তার সামনে হ্যাংলার মতো এসে হাজিরা দেবে? উহুঁ! এই একটা ব্যাপারে ভূত-ভগবানে খুব মিল!
--- এখানে পেশক চা বাগানের মধ্যে গুম্বাদাঁড়ার ঠিক আগে একটা ভূতের ডেরা আছে, না?
সুন্দর অবাক এবং সন্দিগ্ধ।
--- আপনি কীভাবে জানলেন!
--- যেভাবেই জেনে থাকি, আছে কিনা? ওখানে পনেরো-ষোলো বছরের একটা ছেলে গলায় দড়ি দিয়েছিল। তারপর থেকে ওই পথে তার অশরীরি আত্মা ঘুরে বেড়ায়।
এবার প্রতিবাদ করে সুন্দর।
--- বকওয়াস, কিস্যু নেই। আমি আর আমার এক বন্ধু রাত সাড়ে এগারোটায় গুম্বাদাঁড়া দিয়ে পাস করেছি এই সেদিন।
--- তুমি ভূতে বিশ্বাস করো?
--- নাহ্।
--- তাহলে দেখতে পাবে আশা করলে কী করে! মানুষের প্রেস্টিজ আছে, ওদের নেই? প্রেতাত্মার অস্তিত্বেই ভরসা রাখে না যে, তার সামনে হ্যাংলার মতো এসে হাজিরা দেবে? উহুঁ! এই একটা ব্যাপারে ভূত-ভগবানে খুব মিল!
--- আপনি লেখক, না?
চমকে তাকিয়ে দেখি সেই হলুদ শাল, ভেতরে অতল নীল বুটিদাগ, এতক্ষণে মুখ ফিরিয়েছে আমার ওপর। বাহ্। বেশ চোখজুড়নো চোখদুটো তো! সেখানে বিস্মিত আনন্দ আর আর নিচে টিপে রাখা ঠোঁটের অন্দরে এক পশলা বুদ্ধিমতী হাসি।
--- না না, ওসব কিছু নয়।
--- বললেই হবে? একা একা কেউ এতদূর বেড়াতে আসে! লিখবেন বলেই তো এসেছেন। তারপর এই যে রুম-বয়ের সঙ্গে কথা বলছিলেন, আমি যা বোঝার বুঝে নিয়েছি। আচ্ছা, আপনি কি শুধু গল্প লেখেন? নাকি কবিতাও!
চমকে তাকিয়ে দেখি সেই হলুদ শাল, ভেতরে অতল নীল বুটিদাগ, এতক্ষণে মুখ ফিরিয়েছে আমার ওপর। বাহ্। বেশ চোখজুড়নো চোখদুটো তো! সেখানে বিস্মিত আনন্দ আর আর নিচে টিপে রাখা ঠোঁটের অন্দরে এক পশলা বুদ্ধিমতী হাসি।
--- না না, ওসব কিছু নয়।
--- বললেই হবে? একা একা কেউ এতদূর বেড়াতে আসে! লিখবেন বলেই তো এসেছেন। তারপর এই যে রুম-বয়ের সঙ্গে কথা বলছিলেন, আমি যা বোঝার বুঝে নিয়েছি। আচ্ছা, আপনি কি শুধু গল্প লেখেন? নাকি কবিতাও!
এই মেয়েটা নিশ্চয়ই বাংলার নারীসমাজের শেষ প্রতিনিধি, লেখক শব্দটা শুনলে যার মনে করুণার বদলে গায়ের চাদরে নতুন কলকা ফুটে ওঠে? ভুরুতে মোচড় না দিয়ে এমন গনগনে বিরক্ত বরের সামনেই কথা বলতে সাহস হয়! দু’গালে বাকি খাওয়া সেরে উঠে পড়ি। বেসিনের দিকে যেতে যেতে বুঝি, সাবেক নারীর চুলের কাঁটার মতো তার দুই-দৃষ্টি আমার পিঠে বিঁধে আছে।
হায় রে মেয়ে, সারা জীবন সমস্ত ব্রহ্মাণ্ড জুড়ে তোমরা কোথায় থাকো, আর আমরা কোথায়! যখন হাতভর্তি কাশফুল নিয়ে মাঠের রোদ্দুরে ছুটে বেড়াও, আমরা কুন্ঠিত শীতের সন্ধে উজিয়ে ঘর খুঁজতে থাকি। তার বহুযুগ পরে বিভ্রান্ত তুমি-র সঙ্গে থ্যাঁতা রক্তমুখ আমি-র দেখা, পুঞ্জপাইন, ফুলকপি-মেঘে ছাওয়া সূর্যাস্তের টেবিলে। তোমার ছোট হয়ে আসা খোঁপা, রোগা কাঁধ আর সামান্য শ্বাসকষ্টের মাটি খুঁড়ে কিশোরীমুখ পুনরুদ্ধারে আমার তো অসুবিধে হয় না। কিন্তু তুমি কী করে চিনলে এই কাঙাল ব্যঞ্জনবর্ণ ক’টা? নাকি সেই কবে থেকে পাহাড়ের চিলেকোঠায় আয়না হয়ে আছো, যেখানে একটু আগে ছোটবয়েসি নিজেকে দেখে এলাম...।
ছয়
ওয়েবসাইট বলছিল, ড্রাইভার অমিত ভুটিয়া বলেছে, স্থানীয় সড়ক যোজনাও একই সুর ভাঁজতে থাকে --- হ্যাঁ, চিতা আছে। তবে সন্ধের আগে নয়, দোকানপাটের এদিকটায় নয়। তিনচুলেতে আছে, লামাহাটায় থাকার কথা, চাতকপুরে তো অত্যন্ত ভীষণরকম! তাছাড়া, লেপচাজগতের বন-বিভাগের বাংলোয় দারোয়ান তালা লাগিয়ে দেয় দিনের আলো নিভতেই। লোলেগাঁওয়ের বস্তি এলাকায় যারা শাল বেচতে যাচ্ছে, সেইসব মুর্শিদাবাদী কাশ্মিরীদের জিগেস করলে আখোঁ দেখা হাল পাওয়া যাবে!
ওয়েবসাইট বলছিল, ড্রাইভার অমিত ভুটিয়া বলেছে, স্থানীয় সড়ক যোজনাও একই সুর ভাঁজতে থাকে --- হ্যাঁ, চিতা আছে। তবে সন্ধের আগে নয়, দোকানপাটের এদিকটায় নয়। তিনচুলেতে আছে, লামাহাটায় থাকার কথা, চাতকপুরে তো অত্যন্ত ভীষণরকম! তাছাড়া, লেপচাজগতের বন-বিভাগের বাংলোয় দারোয়ান তালা লাগিয়ে দেয় দিনের আলো নিভতেই। লোলেগাঁওয়ের বস্তি এলাকায় যারা শাল বেচতে যাচ্ছে, সেইসব মুর্শিদাবাদী কাশ্মিরীদের জিগেস করলে আখোঁ দেখা হাল পাওয়া যাবে!
আজ অমিত আমাকে সাইট সিয়িংয়ের নামে স্বর্গ যদি কোথাও থাকে-তে নিয়ে গিয়েছিল! লামাহাটা। জিওফ বয়কটের দীর্ঘ টেস্ট ইনিংসের মতো না-হেল না-দোল ঝাউবন তার প্রচ্ছদ। সেই এক-এক ঝাউগাছের কোটিপত্রের প্রত্যেকটা যে কতগুলো করে সবুজ স্ফটিক বেঁধে বেঁধে গড়ানো, বুঝতে পারলে তাদের এই অপরিসীম ভেলভেট-শরীর, তাদের ঝাঁকড়া দোলন, তাদের চক্ষুশিশির ধরে রাখার ক্ষমতা --- সব কুয়াশার মতো স্পষ্ট হয়ে যেত। আমি আগেও বলেছি এবং বলার বহু ভূতপূর্বে আমি বলে এসেছি যে কুয়াশা পাইনবাগিচায় কলোনি করে থাকে। আর, তাদের শিবির হয়তো পাইনবাগের জন্মের আগে থেকে পাইনে শুভসূচনা। কাজেই জাগ্রত হয়ে উত্থিত, ও উত্থিত হয়ে আমি সেই অতি-পরিচ্ছন্ন অরণ্যে ঢুকে যাই। ফার্নকুঞ্জ কিছু কিছু দূরে, লোকটিমাত্র নেই, ওমনি হঠাৎ চিতাবাঘের মনগড়া হাজিরা হাজির হয় মনের মধ্যে। দাঁত দিয়ে আখ ভাঙার মতো আধা-ওলটানো গাছ, লক্ষ্ণৌ শালের আদলে শ্যাওলা, গুঁড়ির গায়ে কোথাও যোনিকোটর, এমনকি জলধারাবেতের মার খেয়ে বিনয়ী হয়ে আসা পাথরের হাসিমুখ --- সবকিছুর ছবি তুলতে থাকি সেই চিতাকে একটু অফ ফোকাসে ধরে রেখে।
পাথর-বসানো সিঁড়ি বাইতে বাইতে বসে যাই কাঠ কেটে বানানো মাচায়। পাশে মাটিশিলাগুল্মগাছে ঠাসা পাহাড়দেয়াল। তার গায়ে আস্তে হাত। নাকে সুড়সুড়ি লাগানো ঘাস পর্যন্ত মুখ নামিয়ে নিয়ে চুমু রাখি নোনতা, কীট-চলা মাটির সজলে। বলি, কখনও খ’সে প’ড়ো না, বন্ধুরা। কোনও বর্ষারাতে, কস্মিন গ্রামের পায়ের নিচে থেকে, কোনও ট্যুরিস্ট জিপের পিঠের ওপর। ধ আর দন্ত্য স কিছুতে পাশাপাশি না আসতে পারে দেখা দরকার; উচ্চতা আঁকড়ে থাকো, কুয়াশা ও রোদ --- তোমার দুই জমজ সন্তানের রোজ জন্ম হোক। তখন মনে পড়ল, আমার বেঁচে ওঠার বহু আগে মরে যাওয়া ঠাকুমার কথা। খুলনা, সেনহাটি গ্রামের বাড়িতে প্রতি সকালে গোয়াল থেকে গরু বেরিয়ে মাঠে চরতে যাওয়ার সময়ে তার কানে কানে বলে দিতেন, দূরে যেও না, মুখ দিও না কারও ক্ষেতে, গলার দড়ি ছিঁড়ো না, সন্ধের আগে ঘরে ফিরে এসো!
আমি নাড়িতে বয়ে বেড়াচ্ছি আমার পূর্বনারীকে...।
সাত
আজ সমস্ত সকাল বেতের চেয়ারের ভেতরে ভ্রমণে যাব ভেবে গোলাপি কুশনে অকাতরে, হাজার-হাজার ব’সে থাকলাম। আমি স্তব্ধ ব’লে দিনও নিঃশ্বাস বন্ধ করে।
আজ সমস্ত সকাল বেতের চেয়ারের ভেতরে ভ্রমণে যাব ভেবে গোলাপি কুশনে অকাতরে, হাজার-হাজার ব’সে থাকলাম। আমি স্তব্ধ ব’লে দিনও নিঃশ্বাস বন্ধ করে।
মেঘের তেষ্টায় ওথলানো আর কুয়াশার দূরবীনে চেকনাই বারান্দাটা। যদি বিস্কুটের একটা চকখড়িদাগ টানা যায় রাস্তার চৌমাথা থেকে লজের বাগান পর্যন্ত, তার ওপর দিয়ে হেঁটে মিশিও এই ব্যালকনিতে অসংখ্যভাবে বসে গেছে।
আস্তে আস্তে ভিজে রোদ, গাছের অতিসবুজ ডাক, পাহাড়ের কুহক মুছে যায়। দেখি আশআশের খাদ থেকে দুধের মাখনের মতো ভেসে উঠছে নিঝুম। সে দেখতে পরিচ্ছন্ন আর খুব ভালো স্বাস্থ্যের। আচ্ছা, আমার মতো একটু আলসে কি?
নিঝুম যে এত গভীর মনের, দারুন বাংলা কবিতা বুঝিয়াল, জীবন নিয়ে কোনও প্রশ্নের উত্তর অচেনা রাখেনি, অথবা ঝাঁকুনি ছাড়াই পারে পৃথিবী থেকে পৃথিবীকে সরিয়ে আনতে --- এইসব অনবদ্য সত্যের ভেতরে আমি ডুবে যাচ্ছিলাম। হ্যাঁ, সময়ের এখানে-ওখানে এক-আধটা পাখি ডাকছিল তো! বাসন-সরানো হাতের গুনগুনও, কিন্তু তারা নিঃশব্দের বর্ষাতি ধ’রে গড়ানো দুএকটা মাত্র হেম-সেলাই।
সারা জীবন শুধু মনে মনে যেসব ইচ্ছে ভেবে গেছি, আজ এই শুনশানে তাদের অনুচ্চারণ স্পষ্ট কানে বাজতে লাগল। তারপর, কেমন ব্যথার আজান পেয়ে পাঞ্জাবির হাতা গুটিয়ে দেখি, হা জীবন, সেই আকাঙ্খারা অবিকল গায়ে উলকি হয়ে আঁকা! নিঝুম যদি গলা শুনিয়ে থাকে, তাহলে কে লিখতে পারে দেহখাতাতে ভেবে আমি শীতকে সন্দেহ করি, যেহেতু তার গায়ে কাঁচা কাঠের হলুদ গন্ধ, গালে রোদ্দুরের কোল্ড ক্রিম। যেহেতু শীতেই টাটকা সবজির মতো কবেকার পচে যাওয়া ইচ্ছেসকল সেরে ওঠা সম্ভব। আমি তাকে দোষী করব বলে ঠোঁট খুলতেই মুখের মধ্যে একটা পিপারমেন্ট লজেন্স ছুঁড়ে দিয়ে শীত দৌড়ে পালাল আর তৎক্ষণাত ‘ঘেউ’ দিয়ে পেছন পেছন ছুটল মিশিও।
আট
আসলে, সিজন শুরু। বোলেরো, সুমো, অলটো ক’রে ভারি স্পোর্টস শু-র অশ্বারোহী বাহিনী সকালে দুপুরে সন্ধেয় ঝাঁকে ঝাঁকে এসে জমছে পাহাড়ের পাকস্থলি, বুক, কন্ঠনা্লীতে। তা থেকে কমেন্ডোর মতো লাইট ক্যামেরা-গান উঁচিয়ে লাফিয়ে রাস্তায় পড়ছে ট্যুরিস্ট। লটবহর দেখলে উপনিবেশ আগ্রাসনের গল্পই মনে পড়ে। কীভাবে ফিরবো শান্ত নির্জন আমার কলকাতা শহরে!
আসলে, সিজন শুরু। বোলেরো, সুমো, অলটো ক’রে ভারি স্পোর্টস শু-র অশ্বারোহী বাহিনী সকালে দুপুরে সন্ধেয় ঝাঁকে ঝাঁকে এসে জমছে পাহাড়ের পাকস্থলি, বুক, কন্ঠনা্লীতে। তা থেকে কমেন্ডোর মতো লাইট ক্যামেরা-গান উঁচিয়ে লাফিয়ে রাস্তায় পড়ছে ট্যুরিস্ট। লটবহর দেখলে উপনিবেশ আগ্রাসনের গল্পই মনে পড়ে। কীভাবে ফিরবো শান্ত নির্জন আমার কলকাতা শহরে!
তিন কিলোমিটার দূরে তাকদা পর্যন্ত যেতে পারলে অনেকটা নিশ্চিন্ত। সেখানে থেকে শেয়ারের গাড়িতে রাস্তা ভেঙে ভেঙে সমতলে পৌঁছনো যাবে। অমিত ইয়াররিংয়ের মতো যত্নে স্টিয়ারিং ঘোরাতে ঘোরাতে বলে: কাল বিকেলে তো আমরা কেভ পয়েন্ট দেখে এলাম পেশক চা বাগানের মধ্যে উঁচু টিলার মাথায় চেপে? সন্ধেবেলা গ্রামের লোক ওখানেই চিতা দেখেছে, দুটো বাচ্চা সমেত বাগান থেকে বেরিয়ে বাঁদিকে খাইয়ের মধ্যে ঢুকে গেল।
শুনতে শুনতে মনে হয়, আমাদের ভয় চিতাকে, না চিতায়? আতঙ্ক মানে কি! হিংস্র কামড়, অথবা কাঠকুটোর তেজে অন্তিম ঝলসে যাওয়া? এ-জীবনে মৃত্যুর সমোচ্চারিত শব্দের বোধহয় শেষ নেই...!
যখন অরক্ষিত দুপুরবেলা লামাহাটা পাহাড়ের তরল মস্তিষ্কের মতো ছোট্ট লেকের সামনে বসে ছিলাম, ভুখা চিতাবাঘ ওই পাহাড়েই হয়তো আরেক গুল্মের নড়ে ওঠাকে বুনো খরগোশ ভেবে ধোঁকা খেয়েছে।
হলুদ-নীল শাল মনে পড়ল। কাল রাতে একটু দেরিতে ডাইনিংরুমে ঢুকে দেখি, ওদের টেবিলেই খালি চতুর্থ চেয়ারে আমার বসার ব্যবস্থা, নকশাদার স্টোলের ঠিক মুখোমুখি। অবাক লাগল, চাদরের খালি জমিতে নীল তারার ভেতরে ভেতরে আজ নতুন ফুটে উঠেছে লতানে ছায়াপথ, জাফরান রঙের! কিছুক্ষণ উসখুস, তারপর সে বলে: জানেন, আমরাও আজ সাইটসিয়িং করে ফিরছি। ড্রাইভারকে জিগেস করছিলাম, সেই মৃত আত্মার কথা...ছেলেটা কেন মারা গেল? ব’লে খুব এক অন্যরকম চোখে তাকাল সেই মেয়ে।
মনে হয়, সারা আয়ুকাল সমান্তরাল দুটো দেয়াল দিয়ে তৈরি। প্রথম পাঁচিলের একপাশ দিয়ে হাঁটি আমি, অন্যপিঠে পায়চারি আমার জীবন। ঠিক ওইরকম, দ্বিতীয় দেয়ালের একধার দিয়েও আমি ভ্রমণে, অন্যপাশে আমার মৃত্যু বয়ে যায়। আড়াল ভেঙে গিয়ে একদিন প্রত্যেকে হাতে কলমে আসল মৃত্যুকে তো পাই!
তাহলে সব মরীচিকা ডিঙিয়ে প্রকৃত জীবনও একবার জোটার কথা আমাদের, অন্তত একবার...।
নিশ্চয়ই জুটবে। অর্ধেক শিউলি-তোরণের মতো নুয়ে থাকা আমার মনের শীর্ষ মাথা উঁচু করতে করতে বলে।
No comments:
Post a Comment